
উপজেলা প্রতিনিধি, সুবর্ণচর :
সুবর্ণচরে সুপেয় পানির তীব্র সংকট নিরসনে বোরো ধানের পরিবর্তে সরিষা চাষ করা যেতে পারে বলে অভিমত ব্যক্ত করেছেন কৃষিবিদরা। উপজেলার বাড়তি ফসল হিসেবে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে সরিষা। সামান্য পরিচর্যা আর অল্প খরচেই লাভ মিলছে ভালো। বোরো ধান চাষের বদলে এখন সময় এসেছে সরিষা চাষের। এ সরিষা বিক্রির টাকাতেই উঠে আসবে বোরো চাষের লাভ। ২৪ ফেব্রুয়ারী ( মঙ্গলবার) উপজেলার ঘোষফিল্ড এলাকায় বাংলাদেশ পরমানু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিনা) আয়োজনে ও সুবর্ণচর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহযোগিতায় উদ্ভাবিত উচ্চফলনশীল ও স্বল্পকালীন বিনাসরিষা- ৯ ও বিনাসরিষা- ১১ এর সাথে বারিসরিষা-১৮ এর প্রায়োগিক পরীক্ষণ মূল্যায়ন ও চাষাবাদ সম্প্রসারণনের লক্ষ্যে মাঠ দিবস অনুষ্ঠানে কৃষিবিদরা এসব কথা বলেন।
সুবর্ণচর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, সুবর্ণচরের সিংহভাগ জনগোষ্ঠী কৃষিতে জড়িত। এখানে দীর্ঘ দিন ধরে বোরোধান চাষ করার কারনে সুপেয় পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। তাই বোরো চাষের বদলে সরিষা আবাদে ঝুঁকেছেন কৃষকরা। পাশাপাশি এসব ক্ষেতে মৌমাছির বাকশো বসিয়ে মধু সংগ্রহ করেও আয় করা যায়। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে সুবর্ণচরেও সরিষার বাম্পার ফলন ঘরে তোলা সম্ভব।
সুবর্ণচরে এবার কৃষকরা কিছু কিছু বিভিন্ন জাতের সরিষা চাষ করেছেন। প্রতি বিঘায় উৎপাদন হয় প্রায় ৬ থেকে ৮ মণ সরিষা। খরচ কম ও রোগ বালাই কম হওয়ায় স্বল্পমেয়াদি ফসল সরিষার প্রতি আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের। ৬৫-৮০ দিনেই এ ফসল ঘরে তোলা যায়। প্রতি বিঘা আবাদে খরচ মাত্র দুই-আড়াই হাজার টাকা। প্রতি বিঘায় উৎপাদন হয় ৬ থেকে ৮ মণ সরিষা। সরিষা বিক্রির টাকাতেই উঠে আসছে বোরোর লাভ। নতুন করে অর্থের যোগান দিতেও হয়না।
অনুষ্ঠানে কৃষিবিদরা আরো বলেন,দেশে প্রতিবছর ভোজ্যতেলের চাহিদা পরিমাণ ২৪ লাখ মেট্রিক টন। এর মধ্যে দেশে উৎপাদিত সরিষা থেকে আসে মাত্র পাঁচ লাখ মেট্রিক টন। আমন ও বোরো আবাদের মাঝে দেশে আবাদযোগ্য প্রায় ৪০ হাজার হেক্টর জমি পতিত থাকে। এতে সরিষার আবাদ করা গেলে ভোজ্যতেল আমদানি কমবে। পাশা।পাশি সরিষার উপজাত খৈল থেকেও বাড়তি আয় হবে।
তারা আরও জানান, ‘আমরা কৃষকদের প্রশিক্ষণ, বীজ, সার ও কীটনাশক দিচ্ছি।’ ভবিষ্যতে সরিষার চাষ আরও বাড়বে বলে মনে করছেন তাঁরা।
আপনার মতামত লিখুন :