
উপজেলা প্রতিনিধি, হাতিয়া :
হাতিয়ায় পরিকল্পিতভাবে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)–এর এক নেতার দুটি দোকানঘরে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। এতে প্রায় ১৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্তরা।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) ভোররাত প্রায় ৩টার দিকে হাতিয়া পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মানিক মার্কেটে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
ক্ষতিগ্রস্ত দোকানঘরের মালিক মোছলেহ উদ্দিন মিলাদ জানান, তিনি হাতিয়া উপজেলা যুবশক্তির যুগ্ম আহ্বায়ক এবং সর্বশেষ সংসদ নির্বাচনে এনসিপি প্রার্থীর পক্ষে সক্রিয়ভাবে কাজ করেছিলেন। এ কারণে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে আসছিল।
তিনি অভিযোগ করেন, ঘটনার দিন সন্ধ্যায় মানিক মার্কেট এলাকায় ভাড়াটিয়া দোকানদারদের সঙ্গে চা পান করে ওছখালী শহরের দিকে যাওয়ার সময় বিএনপি নেতাকর্মীরা তার ওপর হামলা চালায়।
এ সময় তাকে মোটরসাইকেল থেকে নামিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। তিনি দৌড়ে আত্মরক্ষা করতে সক্ষম হলেও হামলাকারীরা তার মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেয়।
মিলাদ বলেন, “ঘটনার পর থানায় খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে। পরে আমি পুলিশের সঙ্গে দোকানের সামনে গেলে হামলাকারীরা পুলিশের সামনেই আবার আমাকে মারধর করার চেষ্টা করে।
এ সময় পুলিশ বিএনপির নেতা নুরুল ইসলাম হক সাব নামে একজনকে আটক করলেও পরে ছেড়ে দেয়। আহত অবস্থায় আমি হাতিয়া প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিৎসা নিই। রাত তিনটার দিকে খবর পাই আমার দোকানে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে।
মিলাদের পিতা মোয়াজ্জেম হোসেন বেচু অভিযোগ করে বলেন, বিএনপি নেতা হক সাবসহ কয়েকজন তার ছেলেকে একাধিক ধাপে মারধর করে এবং মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেয়। পরে গভীর রাতে তাদের দোকানে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়।
তিনি বলেন, “আগুন লাগার খবর পেয়ে ঘর থেকে বের হতে গেলে দেখি বাইরে থেকে দরজা আটকানো। পরে দরজা ভেঙে বের হয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি দোকান দু’টি পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।”
একই ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত দোকানদার উপজেলা এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব আবদুর রহিম বলেন, “রমজান উপলক্ষে বিভিন্ন জায়গা থেকে আমানত সংগ্রহ করে প্রায় ১০ লাখ টাকার মালামাল দোকানে তুলেছিলাম। কিন্তু শুধু এনসিপি করার অপরাধে আমাদের দোকানের সব মালামাল পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। আমরা প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করছি।
এ বিষয়ে হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) আনিছুর রহমান বলেন, মারামারির ঘটনায় পুলিশ গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছে। পরে অগ্নিকাণ্ডের বিষয়টিও জানা গেছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আপনার মতামত লিখুন :