
মোহাম্মদ হানিফ, স্টাফ রিপোর্টার :
মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রভাব এবার দেশের জ্বালানি বাজারেও পড়তে শুরু করেছে। সম্ভাব্য মূল্যবৃদ্ধি ও সরবরাহ সংকটের আশঙ্কায় আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত জ্বালানি তেল কেনার প্রবণতা যাকে ‘প্যানিক বাইং’ বলা হচ্ছে বাড়তে থাকায় নোয়াখালীর বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে তেলের সংকট দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দেশের সব পাম্পে যানবাহনভেদে জ্বালানি তেল বিক্রির সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি)।
শুক্রবার (৭ মার্চ) সকাল থেকেই সোনাইমুড়ীসহ বিভিন্ন উপজেলার ফিলিং স্টেশনগুলোতে উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়। সরেজমিনে দেখা গেছে, ভোর থেকেই মোটরসাইকেল, প্রাইভেট কার ও দূরপাল্লার বাসের দীর্ঘ সারি পড়ে যায় পাম্পগুলোর সামনে। কোথাও কোথাও মজুত শেষ হয়ে যাওয়ায় পাম্প বন্ধ রাখতে হয়েছে এবং ব্যারিকেড দিয়ে প্রবেশ বন্ধ করা হয়েছে। এতে পরিবহন চালক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় কয়েকজন চালক জানান, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের খবরের পর অনেকেই আশঙ্কা করছেন যে সামনে জ্বালানি তেলের দাম বাড়তে পারে কিংবা সরবরাহে সংকট দেখা দিতে পারে। এ শঙ্কা থেকেই অনেকে ট্যাংক পূর্ণ করার পাশাপাশি অতিরিক্ত তেল মজুতের চেষ্টা করছেন। কেউ কেউ আবার ড্রাম বা ক্যানেও তেল সংগ্রহ করতে দেখা গেছে।
উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দিতে শুক্রবার বিকেলে একটি জরুরি বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে বিপিসি। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, জ্বালানি তেল উত্তোলন ও বিক্রিতে শৃঙ্খলা ফেরাতে এখন থেকে যানবাহনভেদে নির্ধারিত সীমার মধ্যে তেল বিক্রি করতে হবে।
নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, মোটরসাইকেল প্রতি ট্রিপে সর্বোচ্চ ২ লিটার অকটেন বা পেট্রোল নিতে পারবে। প্রাইভেট কার সর্বোচ্চ ১০ লিটার, জিপ বা মাইক্রোবাস ২০ থেকে ২৫ লিটার, পিকআপ ও লোকাল বাস (ডিজেল) ৭০ থেকে ৮০ লিটার এবং আন্তঃজেলা বাস, ট্রাক, কাভার্ডভ্যান ও কনটেইনার ট্রাক (ডিজেল) সর্বোচ্চ ২০০ থেকে ২২০ লিটার পর্যন্ত জ্বালানি তেল নিতে পারবে।
এছাড়া বিক্রিতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রতিটি লেনদেনের ক্ষেত্রে তেলের ধরন, পরিমাণ ও মূল্য উল্লেখ করে ক্রয় রশিদ দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পরবর্তীতে আবার তেল নিতে এলে আগের ক্রয়ের রশিদের মূল কপি পাম্প কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দিতে হবে।
বিপিসি আরও জানিয়েছে, প্রতিটি ফিলিং স্টেশনকে দৈনিক জ্বালানি তেলের মজুত ও বিক্রির তথ্য সংশ্লিষ্ট ডিপোতে জমা দিতে হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দেশের ব্যবহৃত জ্বালানি তেলের প্রায় ৯৫ শতাংশই আমদানিনির্ভর। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা বাজারে মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব ফেলছে। তবে সরকারি পর্যায়ে পর্যাপ্ত জ্বালানি তেলের মজুত রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত তেল কেনা বন্ধ হলে সরবরাহ ব্যবস্থা দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে আসবে।
আপনার মতামত লিখুন :