• ঢাকা
  • সোমবার, ৯ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৪শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৮ মার্চ, ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট : ৮ মার্চ, ২০২৬

সোনাইমুড়ী সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের জায়গা দখল: দলিল লেখক ও ভেন্ডারদের দিকে আঙুল!

মোহাম্মদ  হানিফ ,স্টাফ রিপোর্টার :
সোনাইমুড়ী সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের সরকারি জমি রাতের আঁধারে দখল করে টিনশেড ঘর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে উপজেলা জুড়ে ব্যাপক সমালোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে সরকারি গুরুত্বপূর্ণ এ প্রতিষ্ঠানের জায়গা দখলের ঘটনা আরও বাড়তে পারে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (৩ মার্চ) গভীর রাতে সোনাইমুড়ী সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের পুকুরের উত্তর-পূর্ব কোণে কয়েকজন ব্যক্তি দলবল নিয়ে বাঁশ, কাঠ ও সিমেন্টের পিলার ব্যবহার করে টিনশেডের চারটি ঘর নির্মাণ করেন। পরদিন বুধবার (৪ মার্চ) সকালে সরেজমিনে গিয়ে সেখানে নতুন করে নির্মিত ঘরগুলোর অস্তিত্ব পাওয়া যায়।

এ ঘটনায় বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলেও এখনো পর্যন্ত অবৈধভাবে নির্মিত স্থাপনাগুলো অপসারণ করা হয়নি বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন। বরং রাতের আঁধারে তৈরি করা ঘরগুলো আগের অবস্থানেই রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, আইন মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ এই সরকারি জায়গাটি দীর্ঘদিন ধরেই দখলের চেষ্টা চলছে। সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের কিছু দলিল লেখক, ভেন্ডার ও বহিরাগতদের একটি চক্র পরিকল্পিতভাবে জায়গাটি দখল করেছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। এর আগেও একই জায়গায় ঘর নির্মাণ করে দখলের ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। কেউ বাধা দিতে গেলে দখলকারীরা বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দিচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের উত্তর ও পূর্ব পাশে বাউন্ডারি ওয়াল না থাকায় ভূমিখেকুদের জন্য জায়গাটি সহজ টার্গেটে পরিণত হয়েছে। ইতোমধ্যে অফিসের আশপাশের বেশ কিছু জায়গা দখলে নেওয়া হয়েছে এবং বাকি অংশ দখলেরও চেষ্টা চলছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক দলিল লেখক বলেন, রাতের আঁধারে সরকারি জায়গা দখলের এ ঘটনায় অফিসের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যেও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।

সচেতন মহল বলছে, সরকারি জমি দখলের এ ধরনের ঘটনা প্রশাসনের জন্যও উদ্বেগজনক। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে আরও জায়গা দখলের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

স্থানীয়দের দাবি, সরকারি জমি দখলের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে জায়গাটি দখলমুক্ত করা হোক। তাদের মতে, প্রশাসনের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপই কেবল সরকারি সম্পদ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

এ বিষয়ে সোনাইমুড়ী সাব-রেজিস্ট্রার সিরাজুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি জানতে পেরে তাৎক্ষণিকভাবে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে রাতের আঁধারে ধাপে ধাপে কে বা কারা ঘর নির্মাণ করছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

আরও পড়ুন

  • . এর আরও খবর