• ঢাকা
  • সোমবার, ১৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ১৪ জুন, ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট : ১৪ জুন, ২০২৬

মাদকসেবী আখ্যা দিয়ে পিটুনি, নিহত সবজি ব্যবসায়ী ফয়েজ

মোহাম্মদ হানিফ স্টাফ রিপোর্টার: সোনাইমুড়ীতে মো. ফয়েজ উদ্দিন (৪৪) নামে এক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীকে মাদকসেবী আখ্যা দিয়ে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বঘোষিত ‘মাদক নির্মূল কমিটির’ সদস্যদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় হত্যা মামলা দায়েরের পর দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অন্য অভিযুক্তদের ধরতে অভিযান চলছে।

শনিবার (১৩ জুন) বিকেলে সোনাইমুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কবির হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

নিহত ফয়েজ উদ্দিন উপজেলার নদনা ইউনিয়নের উত্তর শাকতলা গ্রামের বাসিন্দা ও জামাল উদ্দিনের ছেলে। পরিবার ও স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি ভ্যানে করে স্থানীয় বাজারে আম, কাঁঠাল ও বিভিন্ন ধরনের সবজি বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দিবাগত গভীর রাতে শাকতলা গ্রামের ছিদ্দিকিয়া আলীয়া মাদরাসার পেছনের এলাকা থেকে ফয়েজ উদ্দিনসহ তিনজনকে আটক করে স্বঘোষিত মাদক নির্মূল কমিটির ১০ থেকে ১৫ জন সদস্য। পরে তাদের মাদকসেবী আখ্যা দিয়ে নদনা আছিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনের সড়কে নিয়ে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

একপর্যায়ে গুরুতর আহত হয়ে ফয়েজ উদ্দিন অচেতন হয়ে পড়লে তাকে ঘটনাস্থলে ফেলে রাখা হয়। অন্য দুইজনকে নদনা ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে আটকে রাখা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে গিয়ে ওই দুইজনকে উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করে।

এদিকে গুরুতর আহত অবস্থায় স্বজনরা ফয়েজ উদ্দিনকে সোনাইমুড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে পাঠায়। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

নিহতের বাবা জামাল উদ্দিন অভিযোগ করে বলেন, “আমার ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।”

তবে নিহত ব্যক্তি মাদকসেবী ছিলেন কি না, সে বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য নিশ্চিত করা হয়নি।

ওসি মো. কবির হোসেন জানান, নিহতের ছেলে রেজাউল করিম বাদশা বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় ১২ জনকে নামীয় এবং আরও ১০ থেকে ১৫ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে। ঘটনার পরপরই দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, মাদকবিরোধী কার্যক্রমের নামে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার সুযোগ নেই। অভিযোগ থাকলে তা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে তুলে দেওয়াই নাগরিক দায়িত্ব। অন্যথায় এমন ঘটনা সমাজে বিচারবহির্ভূত সহিংসতার সংস্কৃতিকে উৎসাহিত করবে।

আরও পড়ুন

  • . এর আরও খবর