
উপজেলা প্রতিনিধি, কোম্পানীগঞ্জ :
কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরকাঁকড়া ইউনিয়নে অপরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কারণে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের মহিষের ডগি এলাকায় বসুরহাট পৌরসভার ক্রয়কৃত একটি জমিতে দীর্ঘ দিন ধরে খোলা অবস্থায় ময়লা-আবর্জনা ফেলায় এলাকাটি এখন বিশাল ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। এর ফলে একদিকে যেমন পরিবেশ দূষিত হচ্ছে, অন্যদিকে আশপাশের কয়েক হাজার মানুষ মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সড়কের পাশের ওই খোলা জমিতে কোনো সীমানা প্রাচীর (বাউন্ডারি) নেই। ফলে অবাধে সেখানে ফেলা হচ্ছে গৃহস্থালির পচনশীল বর্জ্যসহ নানা বর্জ্য। মাঝে মধ্যে পৌরসভা থেকে ময়লা অপসারণ করা হলেও সেখানে কোনো ধরনের জীবাণুনাশক বা কীটনাশক ছিটানো হয় না। ফলে পচা আবর্জনার তীব্র দুর্গন্ধে ওই সড়ক দিয়ে চলাচল করা পথচারীদের নাভিশ্বাস উঠছে।
ময়লার স্তূপের পাশেই রয়েছে অসংখ্য বসতঘর, মসজিদ ও মাদ্রাসা। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দুর্গন্ধে ঘরে টেকাই দায় হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধদের মধ্যে শ্বাসকষ্ট, চর্মরোগ এবং ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন পানিবাহিত ও বায়ুবাহিত রোগের প্রকোপ আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে।
স্থানীয়রা জানান, ময়লার ভাগাড়ের পাশ দিয়ে একটি খাল বয়ে গেছে। বৃষ্টি হলে কিংবা জোয়ারের সময় খালের পানি উপচে ময়লা-আবর্জনা চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। এতে পানি দূষিত হয়ে কৃষি ও মাছ চাষেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
মহিষের ডগি এলাকার ভুক্তভোগী বাসিন্দারা জানান, বারবার অভিযোগ করা সত্ত্বেও স্থায়ী কোনো সমাধান মেলেনি। জনস্বাস্থ্য রক্ষায় অবিলম্বে উক্ত স্থানে বাউন্ডারি দেয়াল নির্মাণ এবং বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে পরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও বসুরহাট পৌর প্রশাসক মো. মাসুদুর রহমান বলেন, “আমরা ইতিমধ্যে ওখানে একটা ব্যায়োগ্যাস প্রকল্প হাতে নিয়েছি, কাল চলমান রয়েছে। আমি শিগগিরই সরেজমিনে পরিদর্শনে যাব। জনগণের কষ্ট হয় এমন কোনো কাজ পৌরসভার পক্ষে থেকে করা না।”
আপনার মতামত লিখুন :