• ঢাকা
  • সোমবার, ১৬ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২রা চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ১৫ মার্চ, ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট : ১৫ মার্চ, ২০২৬

সেনবাগ জন্মধাত্রী মাকে মারধর পানি ভর্তি কলসী ঝুলিয়ে শাস্তি দিল চেয়ারম্যান

মো. জাহাঙ্গীর আলম শায়েস্তানগরী, সেনবাগ :
সেনবাগে জন্মধাত্রী মাকে মারধরের অভিযোগে মো. শহীদ উল্লাহ (২৬) নামে এক যুবককে গলায় পানি ভর্তি কলসী ঝুলিয়ে প্রকাশ্য বাজারে ঘোরানোর শাস্তি দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় ছাতারপাইয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুর রহমান এই শাস্তি দেন বলে জানা গেছে।

রোববার দুপুরে প্রায় ১১ মিনিট ৪৬ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। কেউ কেউ এমন শাস্তিকে সমর্থন জানালেও অন্যরা এটিকে চেয়ারম্যানের এখতিয়ারের বাইরে ও মানবাধিকার লঙ্ঘন হিসেবে মন্তব্য করেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সেনবাগ উপজেলার ১নং ছাতারপাইয়া ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের ছিলাদী গ্রামের চৌকিদার বাড়ির আবদুর সোবাহানের ছেলে শহীদ উল্লাহর স্ত্রী ছাগলের গোশত রান্না করেন। বিষয়টি জানতে পেরে শহীদের মা সাহরির জন্য কয়েক টুকরা গোশত চেয়ে ছেলের কাছে আবদার করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে শহীদ উল্লাহ তার মাকে ধাক্কা দিয়ে মারধর করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

ঘটনার পর রোববার সকালে শহীদের মা স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদে অভিযোগ দেন। চেয়ারম্যান আবদুর রহমানের নির্দেশে গ্রাম পুলিশ (চৌকিদার) দুলাল অভিযুক্ত শহীদ উল্লাহকে ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে আসেন।
পরে পরিষদে বিজিএফের চাল বিতরণ কার্যক্রম চলাকালে উপস্থিত সেবাগ্রহীতা নারীদের সামনে অভিযুক্তকে ডেকে এনে মাকে মারধরের শাস্তি হিসেবে তার গলায় পানি ভর্তি কলসী ঝুলিয়ে প্রকাশ্য বাজারে ঘোরানোর নির্দেশ দেন চেয়ারম্যান। পরে গ্রাম পুলিশের মাধ্যমে তাকে বাজারে প্রদক্ষিণ করানো হয়। এ সময় বাজারের শত শত দর্শনার্থী ও ব্যবসায়ী ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করেন। অভিযুক্ত লজ্জায় হাঁটতে অপারগতা প্রকাশ করলে গ্রাম পুলিশ তাকে বেত্রাঘাত করতে দেখা গেছে বলেও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।

এ ধরনের শাস্তি দেওয়া চেয়ারম্যানের এখতিয়ারের মধ্যে পড়ে কি না—এ বিষয়ে সেনবাগ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মুহসিয়া তাবাসসুম বলেন, তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ধরনের একটি ভিডিও দেখেছেন। তবে কী পরিস্থিতিতে শাস্তি দেওয়া হয়েছে তা খতিয়ে দেখা হবে।

সেনবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুল বাশার বলেন, গ্রাম আদালতের বাইরে কোনো শাস্তি চেয়ারম্যান দিতে পারেন না। এ ধরনের ঘটনায় অভিযুক্তকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে হাজির করে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে বিচার অথবা থানার মাধ্যমে আদালতে প্রেরণের ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।
এ বিষয়ে ছাতারপাইয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুর রহমান বলেন, অভিযুক্তের মায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে শাস্তি দেওয়া হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ নিজের মায়ের সঙ্গে এমন আচরণ না করে।

আরও পড়ুন

  • . এর আরও খবর