
মো. আসাদুল্যাহ মিলটন : হাতিয়ার সাথে জেলার মূল ভূখণ্ডে সংযোগ রক্ষাকারী একমাত্র সেতুটি যান চলাচলে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এতে করে যে কোনো সময় মারাত্মক দুর্ঘটনায় পতিত হতে পারেন জেলাবাসী। এছাড়াও হাতিয়ায় আরো কয়েকটি কালভার্ট ও সেতুও ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় রয়েছে। যা দ্রুত সংস্কার না করলে অনাকাক্সিক্ষত ঘটনার সম্মুখিন হতে হবে।
জেলার সুবর্ণচর ও হাতিয়া উপজেলার সংযোগ সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করে সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দিয়েছে সড়ক ও জনপদ বিভাগ। উক্ত সাইনবোর্ডে যানবাহন চলাচলে ৫ টন নির্দিষ্ট করে দিলেও তা মানছে না কেউই।
সরেজমিনে দেখা যায়, ৫ থেকে শুরু করে ৪০ টন মালামাল নিয়ে চলাচল করছে ড্রাম ট্রাকসহ অন্যান্য যানবাহন। এভাবে চলতে থাকলে যে কোনো সময় ঘটতে পারে অনাকাক্সিক্ষত দুর্ঘটনা। সেতুটি এতই ঝুঁকিপূর্ণ যে, এর বিভিন্ন স্থানে দেখা দিয়েছে ফাটল। বর্তমানে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে এটি। পিলারে ফাটল দেখা দেওয়ায় জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। জরুরিভিত্তিতে প্রকৌশলগত পরীক্ষা ও সংস্কার কাজ শুরু না হলে ভয়াবহ দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয়রা অভিযোগ করে জানান, সেতুর ফাটলের মূল কারণ হচ্ছে বালু বা মাটির গাড়ির ওভার লোড নিয়ে পারাপার। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিৎ দ্রুত এসব ওভার লোডেড গাড়িগুলো বন্ধ করা। হাতিয়া ও সুবর্ণচরবাসীর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই সংযোগ সেতু দিয়ে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ ও যানবাহন এই পারাপার হলেও এর নিরাপত্তা নিয়ে রয়েছে গভীর উদ্বেগ। এছাড়াও হাতিয়া উপজেলার প্রধান সড়কগুলোতে অবস্থিত পুরোনো কালভার্ট ও ব্রিজগুলো বর্তমানে মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র ও স্থানীয়রা আরো জানান, উপজেলার অধিকাংশ কালভার্ট ও সেতুর নির্মাণ মেয়াদ শেষ হলেও দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনীয় সংস্কার বা পুনর্নির্মাণ না হওয়ায় এগুলো এতই ঝুঁকিপূর্ণ যে, ক্ষেত্রবিশেষে মনে হচ্ছে এগুলো সাক্ষাৎ যমদূত।
সম্প্রতি ফেরি চলাচল শুরু হওয়ার পর থেকে প্রতিদিন ভারী যানবাহন, কাভার্ড ভ্যান ও কয়েক টন ওজনবাহী ট্রাক চলাচল বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে দুর্বল সড়ক ও পুরোনো অবকাঠামোর ওপর চাপ বেড়ে গিয়ে দুর্ঘটনার ঝুঁকি আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
এরই মধ্যে ওছখালী বাজার এলাকার একটি কালভার্ট ভেঙে মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনাকে সতর্ক সংকেত হিসেবে বিবেচনা করে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে যে কোনো সময় বড় ধরনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। তারা এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
আপনার মতামত লিখুন :