
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি, নোবিপ্রবি : নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস ২০২৬ পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ ২০২৬) আয়োজিত অনুষ্ঠানমালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইসমাইল।
কর্মসূচির মধ্যে ছিল জাতীয় পতাকা উত্তোলন, জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন, বর্ণাঢ্য আনন্দ শোভাযাত্রা, নোবিপ্রবি শহিদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ, সংক্ষিপ্ত আলোচনা, মিলাদ ও দোয়া অনুষ্ঠান।
মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে সকালে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে দিবসের কর্মসূচি শুরু হয়। এরপর বর্ণাঢ্য আনন্দ শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। শোভাযাত্রাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে থেকে শুরু হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে শহিদ মিনারে গিয়ে শেষ হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইসমাইল, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রেজওয়ানুল হক, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হানিফ এবং নোবিপ্রবি রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ তামজিদ হোছাইন চৌধুরী শহিদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এ সময় বিভিন্ন অনুষদের ডিনবৃন্দ, ইনস্টিটিউটের পরিচালকবৃন্দ, বিভাগের চেয়ারম্যানবৃন্দ, হলের প্রভোস্টবৃন্দ, প্রক্টর অফিস, ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তর, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা, কর্মচারী ফোরাম ও বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে শহিদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে শহিদ মিনার প্রাঙ্গণে সংক্ষিপ্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইসমাইল বলেন, আজকের এ দিনে আমি স্বাধীনতার মহান ঘোষক শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি। একই সঙ্গে স্বাধীনতা অর্জনের জন্য ১৯৭১ এ যারা শহিদ হয়েছেন এবং স্বাধীনতা রক্ষার জন্য ২০২৪ পর্যন্ত যারা শহিদ হয়েছেন তাদের রুহের মাগফিরাত কামনা করছি। আমরা যে যার অবস্থানে রয়েছি সেখান থেকে যদি আমাদের দায়িত্ব এবং কর্তব্যগুলো নিষ্ঠার সাথে পালন করি তখনই তা হবে দেশপ্রেমের সর্বোচ্চ প্রকাশ। আমাদের কাজের মধ্যে যদি কোনো ঘাটতি থাকে সে ঘাটতি আমরা জ্ঞান, গবেষণা এবং শিক্ষার মাধ্যমে পূরণ করবো, তাহলেই শহিদদের আত্মত্যাগের প্রতি আমাদের দায় শোধ হবে। আমরা যদি মেধা এবং নিষ্ঠার মাধ্যমে কাজ করি তখনই দেশকে একটি অবস্থানে নিয়ে যেতে পারবো বলে আমার বিশ্বাস।
এ সময় উপাচার্য আরও বলেন, দেশকে যদি উন্নত করতে চাই তাহলে আমাদের মেধা, যোগ্যতা এবং জ্ঞানকে কাজে লাগাতে হবে। আমাদের যদি কোথাও ঘাটতি থাকে সবাই মিলে সে ঘাটতি পূরণ করে দেশের জন্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য কাজ করি। আজকের দিনে এটাই হোক আমাদের প্রত্যয়।
বক্তব্যে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রেজওয়ানুল হক বলেন, স্বাধীনতার মূল্য আমাদের অনুধাবন করতে হবে। আমাদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করলে সেটাই হবে দেশপ্রেমের অংশ। আমাদের কাজের মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে। দেশকে শিক্ষা ও গবেষণার মাধ্যমে এগিয়ে নিলে তখনই শহিদদের আত্মা শান্তি পাবে।
কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হানিফ বলেন, সবাইকে মহান স্বাধীনতা দিবসের শুভেচ্ছা। যারা জীবন উৎসর্গ করে স্বাধীনতা এনেছেন আমাদের দায়িত্ব হলো কাজের মাধ্যমে তাদের সেই আত্মত্যাগের ঋণ পরিশোধ করা। আমরা সবাই মিলে সামনে এগিয়ে যাবো এ প্রত্যাশা করি।
উল্লেখ্য, মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে এদিন বাদ যোহর মিলাদ ও দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে ২৫ মার্চ রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার প্রাঙ্গণে শহিদদের স্মরণে মোমবাতি প্রজ্জ্বলন ও নিষ্প্রদীপকরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
আপনার মতামত লিখুন :