• ঢাকা
  • শুক্রবার, ৩রা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৯শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৩ জুলাই, ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট : ৩ জুলাই, ২০২৬

দুদক একটি অকার্যকর ও দুর্নীতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠান – মাহবুব উদ্দিন খোকন এমপি

উপজেলা সংবাদদাতা, চাটখিল : দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তীব্র সমালোচনা করে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও নোয়াখালী-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন এটিকে একটি ‘অকার্যকর’ ও ‘দুর্নীতিগ্রস্ত’ প্রতিষ্ঠান হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি বলেন, “দুদকের ভেতরেই দুর্নীতি সবচেয়ে বেশি। যে সময় যে সরকার ক্ষমতায় থাকে, দুদক সে সরকারকে তোষামোদি করে। দুদক একদিকে ছোটখাটো বিষয়ে হয়রানি করে, অন্যদিকে বড় বড় ব্যবসায়ীদের টাকা নিয়ে সার্টিফিকেট দিয়ে দেয়। বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় সংস্থা হিসেবে দুদকের যে ক্যারেক্টার, তা বদলাতে হবে।’

শুক্রবার (৩ জুলাই) দুপুরে চাটখিল উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে উপজেলা পরিষদ চত্বরে অনুষ্ঠিত এক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

‘কৃষিই সমৃদ্ধি’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে বাংলাদেশ সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার ‘৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষ রোপণ’ কর্মসূচি বাস্তবায়ন এবং ২০২৫-২৬ অর্থ বছরের কৃষি পুনর্বাসন সহায়তা খাতের আওতায় কৃষকদের মাঝে আমন ধান, মরিচ, সবজি বীজ, সার ও অন্যান্য উপকরণ বিতরণের লক্ষ্যে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

ব্যারিস্টার খোকন বলেন, বিগত সরকারের আমলে অনেক ভালো মানুষের চাকরি খেয়ে ফেলা হয়েছে। বর্তমানে দুদকের চেয়ারম্যান ও কমিশনার নিয়োগের জন্য যে সার্চ কমিটি গঠন করা হয়েছে, তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “আমরা আশা করি সার্চ কমিটি এমন ব্যক্তিদের নিয়োগ দেবে যারা শুধু দুর্নীতির বিরুদ্ধে কাজ করবেন, কোনো স্বজনপ্রীতি, দলবাজি বা রাজনৈতিক চাটুকারিতা করবেন না।”

তিনি উল্লেখ করেন, ব্যাংকের ওপর আস্থা হারিয়ে মানুষ ঘরে টাকা জমিয়ে রাখছে, যার ফলে পুনঃবিনিয়োগ ব্যাহত হচ্ছে এবং বেকারত্ব বাড়ছে। এছাড়া রাস্তাঘাট ও সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের দুর্নীতির খতিয়ান তুলে ধরে তিনি বলেন, অনলাইনে একই ফার্ম বারবার কাজ পাচ্ছে এবং কাজের মান খারাপ হওয়া সত্ত্বেও অনেক জায়গায় ইঞ্জিনিয়াররা কাজ শেষ হওয়ার আগেই বিল দিয়ে দিচ্ছেন। যথাযথ মনিটরিং ব্যবস্থা না থাকায় এক বছরের মাথায় রাস্তা ভেঙে যাচ্ছে। এই অবস্থায় তিনি স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “আমার এলাকায় কোনো প্রকার দুর্নীতি বা পুকুর চুরির সুযোগ দেওয়া হবে না।”

স্থানীয় কৃষকদের অধিকার রক্ষায় বাজার সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কড়া বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, সরকারের নিয়ম অনুযায়ী যে এলাকার ধান, সেই এলাকা থেকেই কিনতে হবে, বাইরের ধান এনে দেওয়া সম্পূর্ণ অবৈধ।

পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এবং অক্সিজেন সংকট দূর করতে দলমত নির্বিশেষে প্রতিটি পরিবারের সবাইকে অন্তত ১০টি করে চারা গাছ লাগানোর অনুরোধ জানান। চারা কেনার টাকা না থাকলে তিনি নিজ তহবিল থেকে সেই অর্থ জোগান দেওয়ার ঘোষণা দেন।

অনুষ্ঠানে চাটখিল উপজেলা কৃষি অফিসার জনাব মোঃ জুনাঈদ আলমের স্বাগত বক্তব্যের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া সভায় সভাপতিত্ব করেন চাটখিল উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিজানুর রহমান।

ব্যারিস্টার খোকন প্রবাসী পরিবারসহ স্থানীয় জনগণের জানমালের নিরাপত্তা কঠোরভাবে নিশ্চিত করার জন্য পুলিশ প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়ে বলেন, “জনগণের নিরাপত্তা যে বিঘ্নিত করবে, সে যে দলেরই হোক না কেন, তাকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।” মাঠ পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তাদের অফিসে বসে না থেকে দৃশ্যমানভাবে কৃষকদের সেবা ও পরামর্শ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি তাঁর বক্তব্য শেষ করেন।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন, চাটখিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আবদুল মুন্নাফ, উপজেলা বিএনপির আহবায়ক এডভোকেট আবু হানিফ, পৌরসভা বিএনপির আহবায়ক ও সাবেক মেয়র মোস্তফা কামাল, সদস্য সচিব আহসানুল হক মাসুদ, উপজেলা কৃষক দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মো লিটন, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা গোলাম সরোয়ার প্রমূখ।

আরও পড়ুন

  • . এর আরও খবর