• ঢাকা
  • শুক্রবার, ৩রা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৯শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৩ জুলাই, ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট : ৩ জুলাই, ২০২৬

জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রীর তীব্র সংকট, ব্যাহত পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রম

নুশরাত রুমু, সিনিয়র প্রতিবেদক : জেলায় সরকারি ও বেসরকারি উভয় পর্যায়েই জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রীর তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।দীর্ঘদিন ধরে কনডম, স্বল্পমেয়াদি জন্মনিয়ন্ত্রণ পিল, ইনজেকশন ও ইমপ্লান্টের পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এতে অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভধারণের ঝুঁকি বাড়ার পাশাপাশি নিম্নআয়ের পরিবারগুলো সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, জেলা মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে গত মাস পর্যন্ত ইমপ্লান্টের কোনো মজুত ছিল না। একইভাবে, বিএভিএস হাসপাতালে ইমপ্লান্ট নিতে এসে প্রয়োজনীয় সামগ্রী না পেয়ে অনেক সেবাগ্রহীতাকে ফিরে যেতে হয়েছে। যদিও জেলা সদরে সীমিত পরিসরে কিছু জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি ও অন্যান্য সামগ্রী সংগ্রহ করা সম্ভব হয়েছে, তবে প্রত্যন্ত ইউনিয়ন ও গ্রামীণ এলাকায় এসব সামগ্রীর সংকট এখনও তীব্র। ফলে নিয়মিত সেবা নিতে আসা অনেক দম্পতি প্রয়োজনীয় জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন।

জেলার বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ইউনিয়ন পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র ও মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বেশিরভাগ কেন্দ্রেই বর্তমানে জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রীর মজুত প্রায় শূন্য। কনডম, পিল ও ইনজেকশনের সরবরাহ বন্ধ থাকায় নিয়মিত সেবা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

সেবা নিতে আসা এক নারী জানান, গত দুই মাস ধরে ইউনিয়ন পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে গিয়ে তিনি পিল কিংবা ইনজেকশন কোনোটিই পাননি। কেন্দ্র থেকে জানানো হয়েছে, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে সরবরাহ না থাকায় তারা দিতে পারছেন না। বাজার থেকে কিনতে গেলে অতিরিক্ত খরচ হওয়ায় তা নিয়মিত কেনা তাদের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না।

মাঠপর্যায়ের পরিবার পরিকল্পনা কর্মীরা জানান, জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রীর সংকট দীর্ঘায়িত হলে গ্রামীণ এলাকায় অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভধারণের হার বাড়তে পারে। পাশাপাশি অনিরাপদ গর্ভপাতের প্রবণতা বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে, যা নারীদের জন্য মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কেন্দ্রীয়ভাবে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের ক্রয় প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা এবং প্রশাসনিক জটিলতার কারণে সারাদেশের মতো এ জেলাতেও সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে।

এ বিষয়ে জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা দৈনিক নোয়াখালীর কথার কাছে সংকটের বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তারা জানান, স্থানীয়ভাবে এসব সামগ্রী কেনার কোনো সুযোগ বা বাজেট নেই। তবে কেন্দ্রীয়ভাবে কনডম ও পিল সংগ্রহের কার্যক্রম শেষ পর্যায়ে রয়েছে। আগামী আগস্ট মাসের মধ্যে নতুন সরবরাহ মাঠপর্যায়ে পৌঁছালে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।

আরও পড়ুন

  • . এর আরও খবর