
সাইফুল ইসলাম নিশাত, কবিরহাট : কবিরহাটে সুন্দলপুর ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ড বিএনপির প্রচার সম্পাদক কে মাদকের বিরুদ্ধে কথা বলায় নির্মমভাবে ছুরিকাঘাত করে হত্যার ঘটনা ঘটেছে।
এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে কবিরহাট।
১৮ জুলাই (শনিবার) স্থানীয় সর্বস্তরের জনগণ ও দলীয় নেতা-কর্মীদের উদ্যোগে এক বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার সুন্দলপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের তেঁতুল তোলা সংলগ্ন এ ঘটনা ঘটে।
নিহত ফারুক ওরফে শহীদ মিস্ত্রি কবিরহাট উপজেলার সুন্দলপুর ইউনিয়নের মধ্য সুন্দলপুর গ্রামের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মনু মিস্ত্রির বাড়ির চৌধুরী মিস্ত্রির ছেলে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়,রাতে প্রধান আসামী . আরশাদ ওরফে আকাশ,অতর্কিতে ওই বিএনপি নেতার ওপর হামলা চালায়। হামলাকারী তাকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে মারাত্মক জখম করে।
ছুরিকাঘাতে আহত হওয়ার পর প্রথমে তাকে কবিরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
সেখান থেকেও উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে চৌমুহনী এলাকায় তিনি মারা যান।
এই ঘটনার পর থেকেই পুরো এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।
কবিরহাটের তেঁতুল তোলা এলাকায় প্রধান সড়কে আয়োজিত মানববন্ধনে শত শত মানুষ ব্যানার, ফেস্টুন হাতে অংশ নেন।
ব্যানারগুলোতে খুনিদের দ্রুত গ্রেফতার ও ফাঁসির দাবি জানানো হয়। মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন উপজেলা যুবদলের সভাপতি শাহাদত হোসেন, সুমন ও স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।
এতে বাংলাদেশ জামায়েত ইসলামী, যুব বিভাগের নেতৃবৃন্দরা উপস্তিত ছিলেন।
নিহতের পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করে বলেন এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। এলাকায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি এবং রাজনৈতিক কণ্ঠরোধ করার উদ্দেশ্যেই এই জঘন্য অপরাধ ঘটানো হয়েছে। আমরা অবিলম্বে খুনিদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে ফাঁসি কার্যকর করার জোর দাবি জানাচ্ছি।
নিহতের পরিবারের সদস্যরা কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং প্রশাসনের কাছে আকুল আবেদন জানিয়ে বলেন, যেন কোনো রাজনৈতিক চাপ বা প্রভাবের কাছে নতিস্বীকার না করে প্রকৃত অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হয়।
এই বিষয়ে কবিরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) রোমেল বড়ুয়া সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ঘটনার পর পরই পুলিশ তদন্তে নেমেছে। হত্যা মামলার জড়িতদের চিহ্নিত ২ জন মো. সাজ্জাদ হোসেন আকাশ, ও আরশাদ ওরফে আকাশ আসামীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
তাদের জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের এই ঘটনায় পুরো কবিরহাট এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
আপনার মতামত লিখুন :