প্রকাশিত: ৬ অক্টোবর, ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট : ৬ অক্টোবর, ২০২৬

সাড়ে ৫ বছরেও অসম্পূর্ণ হাতিয়া মডেল মসজিদ

উপজেলা সংবাদদাতা, হাতিয়া : একটি নিভৃত প্রার্থনালয়, ধর্মপ্রাণ মানুষের বহুদিনের স্বপ্ন এবং ইসলামী সাংস্কৃতিক চর্চার কেন্দ্রবিন্দু—এসবের প্রতীক হয়ে ওঠার কথা ছিল নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার মডেল মসজিদটির। কিন্তু সাড়ে পাঁচ বছর (৬৫ মাস) পার হয়ে গেলেও আজও শেষ হয়নি এই মসজিদের নির্মাণকাজ। ৫৬০টি মডেল মসজিদ প্রকল্পের আওতায় জেলার অন্য আটটি উপজেলায় কাজ শেষ হয়ে মসজিদ উন্মুক্ত করা হলেও, হাতিয়ার হাজারো মুসল্লির প্রতীক্ষার প্রহর যেন আর শেষ হচ্ছে না।

​বর্তমানে থমকে থাকা এই প্রকল্পের ভৌত অগ্রগতি দাঁড়িয়েছে মাত্র ৬০ শতাংশে। সুদৃশ্য এই ইসলামী সাংস্কৃতিক কেন্দ্রটির ধীরগতি নিয়ে স্থানীয় ধর্মপ্রাণ মানুষের মনে জমা হয়েছে তীব্র ক্ষোভ ও চরম হতাশা।

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে নির্মিত চারতলা মেয়াদের এই দৃষ্টিনন্দন স্থাপত্যটির কাজ শুরু হয় ২০২০ সালের ৭ ডিসেম্বর। গণপূর্ত বিভাগের অধীনে ‘কেই-ওজি-ডিইএসএইচ (জেভি)’ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ১৫ মাস মেয়াদে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন ওসমান গনি। মূল চুক্তিমূল্য নির্ধারণ করা হয়েছিল ১৪ কোটি ৯২ লাখ ৯০ হাজার ৩৬২ টাকা।

​নির্দিষ্ট সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী দুই দফায় মোট ৩৬৫ দিন সময় বাড়িয়ে দেন। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি ২ কোটি ১৭ লাখ টাকা অতিরিক্ত অনুমোদন দিয়ে মোট ভেরিয়েশন চুক্তিমূল্য নির্ধারণ করা হয় ১৬ কোটি ৯৩ লাখ ৮ হাজার ৯৫ টাকা। কিন্তু শেষ দফায় বর্ধিত মেয়াদের মেয়াদকাল (৩০ জুন ২০২৪) পেরিয়ে দেড় বছরের বেশি সময় পার হলেও মসজিদের কাজ এখনো অসম্পূর্ণ।

চুক্তি ও শর্ত অমান্য করায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে গণপূর্ত বিভাগ থেকে ইতোমধ্যে চারবার চিঠি দেওয়া হয়েছে। সর্বশেষ ২০২৬ সালের ১২ এপ্রিলে পাঠানো চিঠিতে উল্লেখ করা হয়—​ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে এ পর্যন্ত ৯ কোটি ৯৫ লাখ ৬৩ হাজার টাকা বিল পরিশোধ করা হয়েছে।​সময় অতিবাহিত হয়েছে দীর্ঘ ৬৫ মাস।​কাজের ভৌত অগ্রগতি ৬০ শতাংশ এবং আর্থিক অগ্রগতি ৫৮.৭৭ শতাংশ।​বারবার তাগাদা দেওয়া সত্ত্বেও কাজের গতি বাড়াতে কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ নেয়নি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর বর্তমানে অত্যন্ত ধীরগতিতে কেবল গাঁথুনির কাজ চলছে। যে আঙিনায় প্রতিনিয়ত আজানের ধ্বনি প্রতিধ্বনি হওয়ার কথা ছিল, তা এখন খাঁ খাঁ করছে নির্জনতায়।

​স্থানীয় বয়োজ্যেষ্ঠ মুসল্লি মাস্টার আবদুল আজিজ আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, “একটি মসজিদের কাজ এভাবে বছর পর বছর আটকে থাকা আমাদের মতো ধর্মপ্রাণ মানুষের হৃদয়ে তীব্র বেদনার সৃষ্টি করেছে। অন্য সব উপজেলায় মানুষ সুদৃশ্য মসজিদে সালাত আদায় করছেন, আর আমরা বছরের পর বছর শুধু আশার বাণী শুনে যাচ্ছি।

​হাতিয়াবাসীর একটাই চাওয়া আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গড়িমসি দূর করে মান বজায় রেখে দ্রুত যেন এই সুদৃশ্য মডেল মসজিদটি মুসল্লিদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন

  • . এর আরও খবর