প্রকাশিত: ৫ নভেম্বর, ২০২৩
সর্বশেষ আপডেট : ৫ নভেম্বর, ২০২৩

নাগরিক সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত সোনাইমুড়ী পৌরবাসী

সোনাইমুড়ী থেকে মোশাররেফ হোসেন : সোনাইমুড়ী পৌরসভা প্রতিষ্ঠার পর থেকে হোল্ডিং করসহ অন্যান্য পৌর কর পরিশোধ করে এলেও নাগরিক সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত পৌরবাসী।অথচ ভাঙা রাস্তাঘাট, সুপেয় পানির অভাব, ভঙ্গুর ড্রেনেজ ব্যবস্থা, পর্যাপ্ত ডাস্টবিন নেই, সুয়ারেজ লাইন নেই, পর্যাপ্ত লাইটিং এর ব্যবস্থা নেই, এলাকাভিত্তিক নাইটগার্ড নেই, সিসি ক্যামেরা নেই, সামান্য বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়, অপরিকল্পিত নগরায়ন ও পয়নিষ্কাশন ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন সমস্যায় ভুগছে করদাতা হাজার হাজার পৌর নাগরিক। ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, নামেই মাত্র প্রথম শ্রেণির পৌরসভা।

যেখানে জাতীয় সনদপত্র, ট্রেড লাইসেন্স, জন্মনিবন্ধন, মৃত্যু সনদ,ওয়ারিশ সনদপত্র পেতে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। সেবার পরিবর্তে বেড়েছে জমি ও বাড়ির কর। প্রথম শ্রেণির পৌরসভার নাগরিকরা ১০ থেকে ১২ ধরনের সেবা পাওয়ার কথা। কিন্তু কাগজে-কলমে পৌর নাগরিক হলেও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত হয়নি পৌরবাসীর। সরজমিন গিয়ে সোনাইমুড়ী পৌরসভা এলাকার ভানুয়াই ভূঁইা বাড়ির দক্ষিণ পাশ থেকে পাপুয়া পর্যন্ত এবং একই গ্রামের জব্বর সেরাং এর বাড়ি সংলগ্ন পাপুয়া সংযোগ সড়ক, চন্দ্রপুর,কৌশল্যারবাগ,সোনাইমুড়ী পূর্ব-পশ্চিমপাড়া,কাশারপাড়া, বরলাসহ বিভিন্ন গ্রামের রাস্তাগুলো বেহাল দশায়! ভাঙাচোরা, খানাখন্দকে ভরা, জন চলাচলের অনুপযোগী।সাবেক পৌরমেয়র মোতায়ের হোসেন মানিকের দায়িত্বকালে পৌর বাজার ও এলাকায় বিভিন্ন সড়কে স্থাপিত স্ট্রীট লাইট গুলির বেশির ভাগই অকেজো।ঐসময়ে বিভিন্ন এলাকায় কাচা রাস্তা থেকে পাকা সড়কে উন্নিত হলেও সেই রাস্তা গুলো পূণঃসংস্কার নাথাকায় ও না হওয়ায় এর অধিকাংশই বিলিন হওয়ার পথে।

এসব রাস্তাঘাট সংস্কারের বিষয়ে জানতে চাইলে পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মোশতাক আহমেদ তালুকদার বলেন, কোভিড পরবর্তী বিশ্ব মন্দা অর্থনীতির কারণে উন্নয়ন খাতে ব্যয় ও রাস্তাঘাট সংস্কারের উদ্যোগ থাকলেও পর্যাপ্ত তহবিলের অভাবে তা করা যাচ্ছে না।পৌর নাগরিক সেবা দানে আমাদের জনবলের ঘাটতি নেই। ইতিমধ্যে পৌর এলাকাধীন বিভিন্ন রাস্তা সংস্কারের প্রায় ৩ কোটি টাকার কাজ হাতে নেয়া হয়েছে।তন্মধ্যে টেন্ডার শেষে কয়েকটি কাজ শুরু হয়েছে।পৌর নাগরিকদের মধ্যে কর প্রদানের বিষয়ে যথেষ্ট অনুপযোগী মনোভাব থাকার কারণে কর আদায় শতভাগ নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।

নিম্ন ও মধ্যবিত্তের নাগরিকরা কর পরিশোধ করলেও বিত্তবান ও ধনাঢ্যরা পৌর কর পরিশোধ না করায় আর্থিক অনটনের কারণে পৌরবাসী অনেক নাগরিক সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এ ব্যাপারে সোনাইমুড়ী পৌর মেয়র ভিপি নুরুল হক চৌধুরী জানান, করোনা মহামারিতে বিশ্ব অর্থনীতির স্থবিরতার প্রভাবে উন্নয়নে কিছুটা ভাটা পড়ায় সোনাইমুড়ী পৌরসভার কাক্সিক্ষত উন্নয়নে তেমন উল্লেখযোগ্য কিছু না হলেও বেশ কয়েকটি উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। এগুলো বাস্তবায়ন করা গেলে পৌরবাসী তাদের কাঙ্খীত সেবা ও উন্নয়ন ভোগ করবে।

আরও পড়ুন

  • সোনাইমুড়ী এর আরও খবর