• ঢাকা
  • সোমবার, ১১ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৮শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ১০ মে, ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট : ১০ মে, ২০২৬

চাঁদাবাজি-জালিয়াতি মামলায় জয়াগ ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান গ্রেফতার

মোহাম্মদ হানিফ, স্টাফ রিপোর্ট : সোনাইমুড়ী উপজেলার জয়াগ ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মহিন উদ্দিন মোহনকে চাঁ*দাবাজি ও জালিয়াতি মামলায় গ্রেফতার করেছে র‍্যাব। রোববার (১০ মে) দুপুরে জয়াগ বাজার এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। বহুল আলোচিত এ গ্রেফতারের ঘটনায় উপজেলা জুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

র‍্যাব সূত্র জানায়, গত বছরের ১৮ মার্চ জয়াগ ইউনিয়নের বাসিন্দা মিজানুর রহমান বাদী হয়ে ১৪ জনের বিরুদ্ধে একটি চাঁ*দাবাজির মামলা দায়ের করেন। ওই মামলার ২ নম্বর আসামি ছিলেন মহিন উদ্দিন মোহন। দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পর আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। পরবর্তীতে রোববার দুপুর ২টার দিকে অভিযান চালিয়ে জয়াগ বাজার থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পূর্বে মহিন উদ্দিন মোহন জয়াগ ইউনিয়নের ৪ নম্বর বাহারকোট ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ছিলেন। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান শওকত আকবর পলাশ পরিষদে অনুপস্থিত থাকায় প্যানেল চেয়ারম্যান হিসেবে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পান তিনি।

তবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তার বিরুদ্ধে একের পর এক অনিয়ম, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠতে থাকে। অভিযোগ রয়েছে, টাকার বিনিময়ে রোহিঙ্গাদের জন্য ভুয়া জন্মনিবন্ধন ও জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরি, হতদরিদ্রদের চালের কার্ড বিতরণে অনিয়ম এবং সরকারি সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার নামে অর্থ আত্মসাতের সঙ্গে জড়িত ছিলেন তিনি।

এর আগে গত বছরের ৩ জুন এক রোহিঙ্গা নাগরিকের জন্য ভুয়া জন্মনিবন্ধন তৈরির ঘটনায় তৎকালীন সোনাইমুড়ী উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা শাহাজাহান মামুন বাদী হয়ে মহিন উদ্দিনসহ সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। র‍্যাব জানিয়েছে, চাঁ*দাবাজি ও জালিয়াতির মামলার পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে আরও একাধিক অভিযোগ তদন্তাধীন রয়েছে।

সোনাইমুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, চাঁদাবাজি ও জালিয়াতি মামলায় র‍্যাব মহিন উদ্দিন মোহনকে গ্রেফতার করেছে। পরে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে, প্যানেল চেয়ারম্যানের গ্রেফতারের খবর ছড়িয়ে পড়তেই উপজেলা জুড়ে শুরু হয় তীব্র আলোচনা-সমালোচনা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। স্থানীয়দের অনেকেই বলছেন, দীর্ঘদিনের নানা অভিযোগের পর অবশেষে আইনের আওতায় এলেন বহুল বিতর্কিত এই জনপ্রতিনিধি।

আরও পড়ুন

  • . এর আরও খবর