• ঢাকা
  • সোমবার, ১১ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৮শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ১১ মে, ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট : ১১ মে, ২০২৬

সিরাজপুর ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভিতরে ডাক্তার বাইরে ও ডাক্তার

​কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা, প্রতিনিধি :
সরকারি নিয়ম নীতিকে তোয়াক্কা না করে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সিরাজপুর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে চলছে প্রকাশ্য লুটপাট। বিনামূল্যে সেবা দেওয়ার কথা থাকলেও উপ-সহকারী মেডিকেল অফিসার ফাতেমা আক্তার রোগী প্রতি ৫০/১০০ টাকা করে ‘ভিজিট’ নিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নরমাল ডেলিভারি করাতে আসা রোগীদের কাছ থেকেও ৪ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।

সরেজমিনে দেখা যায়, ভেতরে ডাক্তার (উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার) ঔষধ লিখছেন আর দরজার বাইরে ওত পেতে থাকা ঔষধ কোম্পানির প্রতিনিধিরা (দেখে মনে হচ্ছে বাহিরে ও ডাক্তার রোগী দেখতেছে) রোগীদের প্রেসক্রিপশনের ছবি তুলছেন। সরকারি বেতনভুক্ত কর্মকর্তা হয়েও ফাতেমা আক্তারের এমন বেআইনি অর্থ আদায় এবং রিপ্রেজেন্টেটিভদের দৌরাত্ম্যে অতিষ্ঠ সাধারণ মানুষ।

সেবা নিতে আসা একাধিক ভুক্তভোগী ক্ষোভ প্রকাশ বলেন, আমরা গরিব মানুষ বলেই ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে আসি। কিন্তু এখানে ওষুধ লিখে দেওয়ার পর ফাতেমা ম্যাডামকে ৫০-১০০ টাকা না দিলে ডাক্তার মনক্ষুণ্ণ হন। এছাড়া নরমাল ডেলিভারি করাতে আসলে তিনি ৪হাজার থেকে ৫হাজার টাকা নেন।

আরেক বৃদ্ধ রোগী আক্ষেপ করে বলেন, “ভিতরে ডাক্তাররে টাকা দিয়া বাইর অইলে বাইরে ওষুধ কোম্পানির লোকরা টানাটানি শুরু করে। তারা প্রেসক্রিপশন কাড়ি নিয়া ছবি তুলে। আমগো কি মান-সম্মান নাই? এইখানে দেখার কি কেউ নাই?”

এ বিষয়ে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মাহমুদ বলেন, “মেডিকেল অফিসার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দিলে আমরা অভিযুক্তকে ডেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।”

অন্যদিকে, পরিবার পরিকল্পনা মেডিকেল অফিসার ডা. ফাহাদ আহম্মেদ বলেন, “এমনটা হওয়ার কথা নয়। সরকার তাঁদের বেতন দিচ্ছে জনগণকে বিনামূল্যে সেবা দেওয়ার জন্য। আমরা ইতিপূর্বেই সকল উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসারদের রোগীদের কাছ থেকে টাকা-পয়সা না নেওয়ার ব্যাপারে কঠোরভাবে সতর্ক করেছি। অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে, উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার ফাতেমা আক্তার বলেন, “আমি জোর করে টাকা নিই না, কেউ খুশি হয়ে দিলে তখন নিই। আর ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিরা নতুন ওষুধ সম্পর্কে না বোঝালে আমি প্রেসক্রিপশন করব কীভাবে? তারা বাইরে ছবি তুললে সেটা দেখার দায়িত্ব আমার না।”

আরও পড়ুন

  • . এর আরও খবর