
উপজেলা প্রতিনিধি, চাটখিল : চাটখিলে পর্তুগালের নাগরিক তাহেরা বেগমকে দুষ্কৃতিকারীরা হত্যার ১ বছর অতিবাহিত হলেও এ ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটিত হয়নি।
জড়িতদের সনাক্ত করে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে মামলাটি পিবিআই’র তদন্তাধীন রয়েছে। এতে করে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। নিহত তাহেরা বেগম নোয়াখালী জেলার চাটখিল উপজেলার খিলপাড়া গ্রামের আব্দুর রব মুন্সী বাড়ীর মৃত আব্দুল মতিনের স্ত্রী। তিনি ২ ছেলে ও ১ মেয়ের জননী।
জানা গেছে, পর্তুগাল থেকে পরিবারের সদস্যদের সাথে কোরবানীর ঈদ করার জন্য ২০২৫ সালের ২৭ জানুযারী বাড়ীতে আসেন এবং ১৭ জুলাইয়ে পর্তুগাল যাওয়ার ফিরতি টিকেট নিয়ে আসেন। ৭ মে দিবাগত রাতে তাহেরা বেগম তাহাজ্জতের নামাজ পড়ার সময় দুষ্কৃতিকারীদের ছুরিকাঘাতে নিহত হন। এ ঘটনায় তখন বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক ও ইলেকট্রনিক্স মিডিয়া ফলোআপ করে সংবাদ প্রকাশিত হয়। ৮ মে নিহতের ছেলে খিলপাড়া বাজারের ব্যবসায়ী তারেক বিন ইসলাম থানায় মামলা করেন। ১২ মে খিলপাড়া বাজারে হত্যাকারীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি দাবী করে বাজাররের ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসী মানব বন্ধন করেন।
মামলাটি পিবিআইতে স্থানান্তরের দাবি জানান। মামলার বাদী এ হত্যার মূল রহস্য উদঘাটন, ঘটনার মুল মাস্টারমাইন্ড অথবা ভিক্টিমের সহিত কাহারো পূর্বের শত্রুতা ছিল কিনা অথবা জড়িত থাকলে দুষ্কৃতিকারীদের গ্রেফতার করতে না পারার অভিযোগ এনে চাটখিল থানা থেকে মামলাটি পিবিআইতে স্থানান্তরের জন্য পুলিশ হেড কোয়াটারে ক্রাইম রেঞ্জের এডিশনাল ডিআইজির নিকট আবেদন করেন। আবেদনে তিনি মামলা তদন্তের কোন ফলাফল না পাওয়ারও অভিযোগ এনেছেন। মামলটি বর্তমানে চাটখিল থানা থেকে পিবিআইতে স্থানান্তর করা হয়েছে। নিহত তাহেরা বেগমের দেবর শাহ আলম কালু জানান, তার ভাবীকে হত্যার পর এ ঘটনার সাথে জড়িতদের নাম ও ছবি বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক প্রচার করা হলেও কর্তৃপক্ষ এগুরো নজরে আনেননি।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার সমূহ তদন্ত করে আমলে নিলে এ ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটন সম্ভব। খিলপাড়া বাজারের ব্যবসায়ী ফাতিন আলমাস জানান, তাহেরা বেগম হত্যা ১ বছর অতিবাহিত হলেও প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে না পারা দুঃখ জনক। তাহেরার ভাই পিয়াস এ ঘটনার রহস্য উদঘাটন করে প্রকৃত দুষ্কৃতিকারীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। নোয়াখালী জেলার পিবিআই’র পুলিশ সুপার ফয়েজুর রহমান জানান, মামলাটি ঘাটনার অনেক পরে পিবিআইতে এসেছে। পিবিআই’র একটি বিশেষ টিম মামলাটি নিয়ে কাজ করছে।
আপনার মতামত লিখুন :