• ঢাকা
  • রবিবার, ১৫ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২রা ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট : ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

সুবর্ণচরে বাকপ্রতিবন্ধী যুবতীকে ধর্ষণের অভিযোগে জামায়াত কর্মী গ্রেপ্তার

উপজেলা প্রতিনিধি, সুবর্ণচর :
সুবর্ণচর উপজেলায় বাকপ্রতিবন্ধী এক যুবতীকে ধর্ষণের অভিযোগে মো. ফারুক ওরফে ড্রাইভার ফারুক (৫৫) নামের এক জামায়াত কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার রাতে উপজেলার চরওয়াপদা ইউনিয়নের চর আমিনুল হক এলাকা থেকে চরজব্বার থানা-পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত ফারুক চরওয়াপদা ইউনিয়নের চর আমিনুল হক গ্রামের বাসিন্দা। ঘটনার পর ভুক্তভোগী যুবতীর বাবা বাদী হয়ে চরজব্বার থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে এবং পরে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়।

মামলার এজাহার ও পরিবারের অভিযোগ থেকে জানা যায়, ভুক্তভোগী যুবতী বাকপ্রতিবন্ধী হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে সে কারও কাছে ঘটনার কথা প্রকাশ করতে পারেনি। সম্প্রতি তার শারীরিক পরিবর্তন ও পেট বড় হতে থাকায় পরিবারের সন্দেহ হয়। এক পর্যায়ে জিজ্ঞাসাবাদে সে জানায়, প্রায় ছয় মাস আগে বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে অভিযুক্ত ফারুক তাকে বিরিয়ানি খাওয়ানোর প্রলোভন দেখিয়ে রান্নাঘরে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে। ওই ঘটনার ফলেই সে বর্তমানে অন্তঃসত্ত্বা।

ভুক্তভোগীর মা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “ফারুক ড্রাইভার প্রায়ই জামায়াতের ভোটের কথা বলে আমাদের বাড়িতে আসত। আমি বাইরে থাকলে সে প্রায় সময়ই বাড়িতে আসত এবং আমার প্রতিবন্ধী মেয়েকে বিভিন্ন জিনিসের লোভ দেখাত। একদিন বিরিয়ানি খাওয়ানোর নাম করে তাকে রান্নাঘরে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে। আমার মেয়ে প্রতিবন্ধী হওয়ায় তখন কিছু বলতে পারেনি। পরে তার শারীরিক পরিবর্তন দেখে জোর করে জিজ্ঞেস করলে সে সব খুলে বলে।”

ভুক্তভোগী যুবতী জানান, অভিযুক্ত তাকে ডেকে নিয়ে বিরিয়ানি খাওয়ানোর পর রান্নাঘরে বসতে বলে এবং পরে জোরপূর্বক তার সঙ্গে খারাপ কাজ করে। ভয়ে এবং কথা বলতে না পারায় সে দীর্ঘদিন কাউকে কিছু জানাতে পারেনি।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, অভিযুক্ত ফারুক এলাকায় তেমন পরিচিত ব্যক্তি নন। তারা জানান, গত ৫ আগস্টের পর তিনি লক্ষ্মীপুর জেলার পোড়াগাছা কটিহাটি গ্রাম থেকে এসে চর আমিনুল হক এলাকায় বসবাস শুরু করেন। এলাকাবাসীর সঙ্গে তার তেমন কোনো সামাজিক সম্পর্ক বা সখ্যতা ছিল না।

চরজব্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লুৎফর রহমান বলেন, “ভুক্তভোগী যুবতীর বাবা বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেছেন। অভিযুক্তকে গতকাল রাতেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। ভুক্তভোগী যুবতী বর্তমানে প্রায় ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা। বিষয়টি আমরা গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করছি।”

এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন এবং ভুক্তভোগী যুবতী ও তার পরিবারের নিরাপত্তা ও চিকিৎসা সহায়তার জোর দাবি জানিয়েছেন।

আরও পড়ুন