
সাব্বির ইবনে ছিদ্দিক, হাতিয়া :
নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনের সাম্প্রতিক জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়া ১০ জন প্রার্থীর মধ্যে ৮ জন প্রয়োজনীয় ভোট না পাওয়ায় তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হওয়ার আশঙ্কা। বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী, মোট বৈধ ভোটের এক-অষ্টমাংশের কম ভোট পাওয়ায় নির্বাচন বিধি অনুসারে তাদের জামানত রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন সংশ্লিষ্ট সূত্র।
হাতিয়া উপজেলার এই আসনে মোট ১০৪টি কেন্দ্রের সবগুলোর ফলাফল পাওয়া গেছে। প্রাপ্ত ফলাফলে দেখা যায়, শাপলা কলি প্রতীকের প্রার্থী আবদুল হান্নান মাসউদ ৯০,১১৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মোহাম্মদ মাহাবুবের রহমান শামীম পেয়েছেন ৬৩,৩৭২ ভোট। অন্য প্রার্থীদের মধ্যে আমিরুল ইসলাম মোহাম্মদ আবদুল মালেক (একতারা) পেয়েছেন ৩৮৯ ভোট, এটিএম নবী উল্লাহ আসিফ (নাঙ্গল) ২৭১ ভোট, তানভীর উদ্দিন রাজিব (ফুটবল) ৩,৭১৪ ভোট, মোহাম্মদ আজহার উদ্দিন (ট্রাক) ১৯১ ভোট, মোহাম্মদ আবদুল মোতালেব (তারা) ১,২৩৭ ভোট, মোহাম্মদ আবুল হোসেন (ছাতা) ৮৫ ভোট, মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম শরীফ (হাতপাখা) ২,১৭৯ ভোট এবং মোহাম্মদ ফজলুল আজিম (হরিণ) ৪,৬৮০ ভোট পেয়েছেন। মোট প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যা ১,৬৬,৩৫১।
এ ছাড়া গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছে ১,০০,৯২৫টি, ‘না’ ভোট ৫৩,২৪৮টি এবং বাতিল হয়েছে ১৭,১৬০টি ভোট। গণভোটে মোট ভোট পড়েছে ১,৭১,৩৩৩টি।
রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় জানায়, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে এবং প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যৌথভাবে দায়িত্ব পালন করেছে। গণনা শেষে দেখা যায়, দুই প্রধান প্রার্থী ছাড়া বাকি ৮ জন প্রার্থী উল্লেখযোগ্য ভোট সংগ্রহে ব্যর্থ হন। ফলে নির্বাচন বিধিমালা অনুযায়ী স্বয়ংক্রিয়ভাবে তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটারদের বড় অংশ কৌশলগতভাবে শক্ত অবস্থানে থাকা প্রার্থীদে সমর্থন দিয়েছেন। এতে ছোট দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়েন। সাংগঠনিক দুর্বলতা, সীমিত প্রচারণা এবং স্থানীয় ইস্যুতে কার্যকর অবস্থান তুলে ধরতে না পারাও কম ভোট পাওয়ার অন্যতম কারণ বলে মনে করছেন তারা।
তবে জামানত হারানো কয়েকজন প্রার্থী অভিযোগ করেছেন, তারা পর্যাপ্ত সময় ও সুযোগ পাননি প্রচারণা চালানোর জন্য। নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এসব অভিযোগ নাকচ করে বলেন, সব প্রার্থী সমান সুযোগ পেয়েছেন এবং বিধি মেনেই নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে।
স্থানীয় ভোটাররা জানিয়েছেন, উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতার কথা বিবেচনায় রেখে তারা ভোট দিয়েছেন। তাদের প্রত্যাশা, নবনির্বাচিত জনপ্রতিনিধি এলাকার সার্বিক উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করতে কার্যকর ভূমিকা রাখবেন। সার্বিকভাবে, এই নির্বাচনে ৮ প্রার্থীর জামানত হারানোর ঘটনা স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন আলোচনা সৃষ্টি করেছে।
আপনার মতামত লিখুন :