• ঢাকা
  • রবিবার, ১৫ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২রা ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট : ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

দেশ গভীর অনিশ্চয়তার দিকে, আওয়ামী লীগ আবারও রাজনৈতিকভাবে প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠছে – আবু ওবায়েদ দিদার

৫ আগস্টের পর সরকারের ভূমিকা কার্যত আওয়ামী লীগকে আবারও রাজনৈতিকভাবে প্রাসঙ্গিক করে তুলেছে বলে মন্তব্য করেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, বিএনপি–জামায়াত–এনসিপির রাজনৈতিক আচরণ এবং সরকারের গুড গভর্নেন্স প্রতিষ্ঠায় ব্যর্থতা বর্তমান বাস্তবতাকে আরও গভীর করেছে।

একদিকে মুক্তিযুদ্ধের প্রশ্নে জামায়াত ও এনসিপির বিরোধী অবস্থান, অন্যদিকে বিএনপি–জামায়াত–এনসিপির নেতিবাচক ও দায়িত্বহীন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড—সব মিলিয়ে যে গণ–অভ্যুত্থানের স্বপ্ন একসময় মানুষের মনে জেগেছিল, তা এখন প্রায় সম্পূর্ণভাবে ধূলিসাৎ হয়ে গেছে। বিশেষ করে দুর্বল বামপন্থী রাজনীতি এবং ইসলামিক রাজনৈতিক শক্তির দৃশ্যমান উত্থানও আওয়ামী লীগকে নতুন করে রাজনৈতিকভাবে প্রাসঙ্গিক করে তুলেছে।

এক বিশ্লেষকের অভিমত, “৫ আগস্টের পর আমি নিজে প্রত্যক্ষ করেছি—স্বাধীনতা পেলে ইসলামিক কিছু দল, গোষ্ঠী কিংবা ব্যক্তি কীভাবে আচরণ করে। নারীর ওপর আক্রমণ, ঘোড়ায় চড়ে তালেবান সাজার চেষ্টা, ভাস্কর্য ভাঙচুর, মাজার ধ্বংস, আকিদা নিয়ে উসকানিমূলক দ্বন্দ্ব—এসব কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে তারা নিজেরাই নিজেদের গণবিরোধী শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।”
তিনি বলেন, “স্বাধীনতার সুযোগ তারা ব্যবহার করেনি গণতন্ত্রের জন্য; বরং স্বাধীনতাই তাদের জনবিচ্ছিন্ন করে তুলেছে। এর পরিণতিতে আগামী দুই–তিন বছরের মধ্যে দেশে ছোটোখাটো সিভিল ওয়ারের পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।”
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, আওয়ামী লীগ এখনো রাজপথে সরাসরি সক্রিয় না হলেও দেশের সামগ্রিক অবস্থা ইতোমধ্যেই ভয়াবহভাবে নাজুক হয়ে পড়েছে। তার মতে, আওয়ামী লীগ যখন মাঠে নামবে, তখন পরিস্থিতি কোন পর্যায়ে পৌঁছাবে—তা অনুমান করাও কঠিন।

আসন্ন নির্বাচন নিয়েও গভীর শঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, “বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশ ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনায়, এটি হতে পারে একটি অত্যন্ত খারাপ নির্বাচন—যেখানে অতীতের সব খারাপ রেকর্ড ভাঙার আশঙ্কা প্রবল। নির্বাচনে পরাজিত দল দেশ অচল করে দেওয়ার পথে হাঁটতে পারে।”

তিনি আরও সতর্ক করেন, দুর্বল আইন-শৃঙ্খলা ব্যবস্থার কারণে পুরো রাষ্ট্রীয় কাঠামো ভেঙে পড়ার বাস্তব ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, বাংলাদেশ এখন এক গভীর অনিশ্চয়তা ও বিপজ্জনক রাজনৈতিক ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, যা দায়িত্বশীল রাজনীতি, কার্যকর রাষ্ট্র পরিচালনা এবং ন্যূনতম গণতান্ত্রিক শালীনতা ছাড়া সামাল দেওয়া প্রায় অসম্ভব বলে মন্তব্য করেন তিনি।

আরও পড়ুন