• ঢাকা
  • রবিবার, ১৫ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২রা ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট : ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

সিসি ক্যামেরার তথ্য দিতে প্রশাসনের গড়িমসি: স্বচ্ছতা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন

মোহাম্মদ হানিফ, স্টাফ রিপোর্ট :
নোয়াখালী-১ (চাটখিল-সোনাইমুড়ী আংশিক) আসনটির ভোটকেন্দ্র গুলোতে বসবে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা। যার জন্য বরাদ্দ হয়েছে ১৮ লাখ টাকা। সাথে থাকছে ইন্টারনেট সংযোগ। এর মাধ্যমে কন্ট্রোল রুম থেকে সরাসরি প্রতিটি কেন্দ্রের ভেতরের ও বাইরের পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হবে। কোনো ধরনের অনিয়ম বা গোলযোগের চেষ্টা করা হলে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেবে প্রশাসন। তবে ইন্টারনেট সংযোগ থাকলেও নেই বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবস্থা। কোন কারনে বিদ্যুৎ বিভ্রাট ঘটলে বন্ধ থাকবে ভিডিও ধারণ। ব্যাহত হবে সরাসরি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ। এছাড়া নির্বাচনের মাত্র একদিন বাকি থাকলেও ক্যামেরা স্থাপনের তথ্য নিয়ে দেখা দিয়েছে ধোঁয়াশা। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সকল কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন হয়েছে জানালেও ট্যাগ কর্মকর্তা দিচ্ছেন ভিন্ন তথ্য।

স্থানীয় সরকার বিভাগের বাজেট শাখার চিঠিতে জানা যায়, সারা দেশে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র গুলোতে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের জন্য ৭১ কোটি ৯৮ লাখ ২৮ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। যার মধ্যে সোনাইমুড়ী উপজেলায় প্রতিটি কেন্দ্রের জন্য ৩২ হাজার ৮০০ টাকা হিসেবে ৫৫টি কেন্দ্রের বিপরীতে ১৮ লাখ চার হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

উপজেলা প্রশাসনের দেওয়া তথ্য বলছে, সোনাইমুড়ী উপজেলার ৫৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ক্যামেরা বসানো হয়েছে। এর মধ্যে ১ আসনের সোনাইমুড়ী অংশের ৩৯টি কেন্দ্রে ও ২ আসনের সোনাইমুড়ী অংশের ১৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ক্যামেরা গুলো স্থাপন করা হয়েছে। তবে দেওটি ইউনিয়নে ক্যামেরা স্থাপনের কাজ তদারকির দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন জানান, তার আওতাধীন প্রাথমিক বিদ্যালয় গুলোতে সিসি ক্যামেরা স্থাপন হয়েছে কিনা তিনি জানেন না। ক্যামেরা যারা স্থাপন করেছেন তারা সমন্বয় করছেনা। গত তিনদিন থেকে তাদের মুঠোফোনে যোগাযোগ করে পাওয়া যাচ্ছে না। কোন প্রতিষ্ঠান ক্যামেরা স্থাপনে কাজ করছে সে বিষয়ে প্রশ্ন করলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার উপ-সহকারী আব্দুল মতিনের সাথে যোগাযোগ করতে বলেন তিনি।

এদিকে একাধিকবার উপজেলায় গিয়েও কোন প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়া হয়েছে, ক্যামেরা স্থাপনের বিষয়ে সরকারি ভাবে নির্ধারিত স্পেসিফিকেশন অথবা মনোনীত প্রতিষ্ঠানের কার্যাদেশের বিষয়ে কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। এমনকি কোন কোন কেন্দ্রে ক্যামেরা স্থাপন হচ্ছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেই তালিকা দিতে বললেও গত কয়েকদিন থেকে গড়িমসি করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার উপসহকারী আব্দুল মতিন। একই ভাবে সকল কেন্দ্রে ক্যামেরা স্থাপন হয়েছে কি না তা জানতে বিভিন্ন ইউনিয়নের ট্যাগ অফিসারদের তালিকা চাইলেও ব্যস্ত রয়েছেন জানিয়ে বিষয়টি এড়িয়ে যান তিনি।
তবে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পালপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ক্যামেরা স্থাপনের কাজ করছে চৌমুহনী এলাকার গুডলাক আইটি নামের একটি প্রতিষ্ঠান। হিকভিসন কম্পানির ক্যামেরা ব্যবহার করা হচ্ছে কেন্দ্র গুলোতে। কেন্দ্রের বাইরে দুটি ৩ মেগাপিক্সেল মিনি বুলেট ও ভেতরের কক্ষ গুলোতে ৩ মেগাপিক্সেল স্মার্ট হাইব্রিড লাইট অডিও ফিক্সড টারেট ক্যামেরা স্থাপন করা হচ্ছে। সাথে দেওয়া হচ্ছে  ৮-চ্যানেল মিনি ১ ইউ টার্বো এইচডি ডিজিটাল ভিডিও রেকর্ডার এবং ইসোনিক ব্র্যান্ডের ১৬ ইঞ্চি মনিটর। তবে সরকারি ভাবে প্রতিটি ভোট কেন্দ্রের জন্য  কমপক্ষে ৬টি ক্যামেরা স্থাপনের নির্দেশনা থাকলেও স্কুলটিতে ৫টি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।

এবিষয়ে চৌমুহনী এলাকার গুডলাক আইটির অফিসে গেলে সেখানে কর্মরত সুজন হোসেন জানান, সোনাইমুড়ী উপজেলার কেন্দ্র গুলোতে তাদের কয়েকটি টিম কাজ করছে। জানুয়ারী মাসের ২৮ তারিখ থেকে কাজ শুরু করেছেন। তবে কাজ শেষ হয়েছে কি না? কবে নাগাদ শেষ হবে এসব প্রশ্নের কোন উত্তর না দিয়ে উপজেলা প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ করতে বলেন। আর কার্যাদেশ বা চুক্তির বিষয়ে জানতে চাইলে প্রতিষ্ঠানের মালিকের সাথে কথা বলতে বলেন।

গুডলাক আইটির স্বত্বাধিকারী তৌহিদুর রহমানের সাথে মুঠোফোনে কথা হলে জানান, কাজ প্রায় শেষের পথে। সরকারের এই বরাদ্দের মধ্যে কাজ শেষ করতে হিমসিম খেতে হচ্ছে। সরকারি ভাবে যে মান নির্ধারণ করা হচ্ছে তার চেয়ে ভালো মানের ক্যামেরা ব্যবহার করা হয়েছে। তবে স্কুল গুলোতে আইপিএস কিংবা বিকল্প বিদ্যুৎ না থাকায় লোডসেডিং হলে ক্যামেরা ব্যাকআপ দিতে পারবে না বলেও জানান তিনি। এছাড়া বরাদ্দের বিষয়ে প্রশ্ন করলে বিষয়টি নিয়ে উপজেলা প্রশাসনের সাথে কথা বলতে বলেন।

আরও পড়ুন